Your Reliable Partner for Mastering Modern Digital Marketing.

AppSumo থেকে কেনা ১০টি সবচেয়ে খারাপ ডিল: আমার তিতা অভিজ্ঞতা ও সাবধানতা

WhatsApp WhatsApp Channel Join Now
Telegram Telegram Channel Join Now

গত পর্বে আমরা আলোচনা করেছিলাম AppSumo-তে Lifetime Deals কখন কিনতে হয়? (সময় ও কৌশল) নিয়ে। আপনারা অনেকেই জানতে চেয়েছেন যে, আমি কি সবসময়ই ভালো ডিল পাই? উত্তর হলো— না। জীবনের সব বিনিয়োগ যেমন লাভজনক হয় না, AppSumo-র সব টুলও তেমন কাজের হয় না। আজ আমি শেয়ার করবো AppSumo থেকে কেনা সবচেয়ে খারাপ ডিলগুলি কী কী এবং কেন সেগুলো আমার কাছে সময়ের অপচয় মনে হয়েছে।

কেন কিছু AppSumo ডিল ‘ইউজলেস’ বা খারাপ হয়ে দাঁড়ায়?

AppSumo-তে আমরা যখন কোনো আকর্ষণীয় লাইফটাইম ডিল (LTD) দেখি, তখন আমাদের মনে হয় আমরা অনেক বড় কোনো সুযোগ লুফে নিচ্ছি। কিন্তু বাস্তবতা সব সময় এমন হয় না। অনেক সময় দেখা যায়, AppSumo থেকে কেনা সবচেয়ে খারাপ ডিলগুলি আমাদের প্রোডাক্টিভিটি বাড়ানোর বদলে উল্টো মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সরাসরি লিস্টে যাওয়ার আগে আমাদের গভীরভাবে বোঝা দরকার, কেন একটি প্রিমিয়াম টুল শেষ পর্যন্ত একটি ‘ইউজলেস’ বা খারাপ ডিলে পরিণত হয়। এর পেছনে প্রধান ৪টি কারণ নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. বগি সফটওয়্যার (Buggy Software): যখন টুলটি ঠিকমতো কাজ করে না

একটি সফটওয়্যার বা টুল কেনার মূল উদ্দেশ্য হলো নিজের কাজকে সহজ করা। কিন্তু AppSumo থেকে কেনা সবচেয়ে খারাপ ডিলগুলির মধ্যে প্রধান সমস্যা হলো এদের অসংখ্য টেকনিক্যাল এরর বা ‘বাগ’ (Bug)।

  • কেন এটি ঘটে: অনেক সময় দেখা যায় একদম নতুন স্টার্টআপ কোম্পানিগুলো তাদের সফটওয়্যারটি পুরোপুরি টেস্ট না করেই AppSumo-তে লঞ্চ করে দেয়।

  • ফলাফল: আপনি হয়তো একটি ইমেইল মার্কেটিং টুল কিনলেন, কিন্তু দেখলেন সেটা থেকে ইমেইলই সেন্ড হচ্ছে না অথবা ইউজার ইন্টারফেস (UI) এতই স্লো যে একটা ক্লিক করলে লোড হতে ৫ সেকেন্ড সময় নিচ্ছে। যখন একটি টুল আপনার কাজের গতি কমিয়ে দেয়, তখন সেটি যত কম দামেই কেনা হোক না কেন, তা শেষ পর্যন্ত একটি খারাপ ডিল হিসেবেই গণ্য হয়।

২. ফিচারের অভাব: লাইফটাইম ডিলে প্রয়োজনীয় ফিচারের অনুপস্থিতি

অনেক সময় আমরা ডিল পেজে দেখি অসংখ্য ফিচারের প্রতিশ্রুতি, কিন্তু কেনার পর দেখা যায় আসল কাজের ফিচারগুলো ‘Tier 1’ বা বেসিক লাইফটাইম ডিলে নেই।

  • লিমিটেশন বা সীমাবদ্ধতা: হয়তো আপনি একটি ভিডিও এডিটিং টুল কিনলেন কিন্তু দেখলেন তাতে ৪কে (4K) এক্সপোর্ট অপশন নেই, অথবা একটি এসইও টুল কিনলেন যেখানে প্রতিদিন মাত্র ৫টি কিউওয়ার্ড সার্চ করা যায়।

  • লুকানো শর্ত: অনেক সময় কোম্পানিগুলো তাদের সবচেয়ে দরকারি ফিচারগুলো মাসিক সাবস্ক্রিপশনের জন্য আলাদা করে রেখে দেয়। ফলে AppSumo থেকে কেনা সবচেয়ে খারাপ ডিলগুলির তালিকায় এমন সব টুল জমা হয় যেগুলোতে টাকা খরচ করার পরও আপনাকে বাড়তি ফিচারের জন্য আবার পেমেন্ট করতে হয়।

৩. খারাপ সাপোর্ট ও আপডেট বন্ধ হওয়া (Abandonware)

AppSumo থেকে টুল কেনার বড় একটি ঝুঁকি হলো—কোম্পানিটি ভবিষ্যতে টিকে থাকবে কি না তার কোনো গ্যারান্টি নেই।

  • ডেভেলপারদের অবহেলা: অনেক কোম্পানি লাইফটাইম ডিল থেকে এককালীন বিশাল অংকের টাকা তুলে নেওয়ার পর টুলটির পেছনে সময় দেওয়া কমিয়ে দেয়। ফলে নতুন কোনো আপডেট আসে না এবং অপারেটিং সিস্টেম আপডেট হলে টুলটি কাজ করা বন্ধ করে দেয়।

  • কাস্টমার সাপোর্ট: যখন আপনি কোনো সমস্যায় পড়ে সাপোর্ট টিমে মেইল করেন এবং ৩ দিনেও কোনো উত্তর পান না, তখন বুঝতে হবে আপনি AppSumo থেকে কেনা সবচেয়ে খারাপ ডিলগুলির মধ্যে একটিতে আটকা পড়েছেন। ভালো সাপোর্ট ছাড়া একটি পেইড টুল ব্যবহার করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

৪. বিকল্প টুলের আধিক্য: যখন ফ্রি টুলই সেরা

কখনো কখনো আমরা উত্তেজনার বসে এমন টুল কিনে ফেলি যার কাজ আসলে অন্য কোনো ফ্রি বা ওপেন সোর্স টুল দিয়ে আরও ভালোভাবে করা সম্ভব।

  • অপ্রয়োজনীয় খরচ: উদাহরণস্বরূপ, আপনি হয়তো এমন একটি স্ক্রিন রেকর্ডার ডিল কিনলেন যার ফিচারগুলো উইন্ডোজের ডিফল্ট রেকর্ডার বা ওবিএস (OBS) স্টুডিওর চেয়েও খারাপ।

  • বাজার যাচাই না করা: অনেক সময় গুগল ক্রোম এক্সটেনশন বা ক্যানভা (Canva)-র মতো টুল দিয়েই অনেক কাজ নিখুঁতভাবে করা যায়। সেই একই কাজের জন্য আলাদা করে থার্ড-পার্টি টুল কেনা মানেই হলো আপনার টাকা অপচয় করা। তাই সঠিক বিকল্প সম্পর্কে ধারণা না থাকা আমাদের AppSumo থেকে কেনা সবচেয়ে খারাপ ডিলগুলির ফাঁদে ফেলে দেয়।

সতর্কবার্তা: ওপরের এই চারটি পয়েন্ট মাথায় রাখলে আপনি ভবিষ্যতে AppSumo-তে বিনিয়োগ করার আগে আরও সচেতন হতে পারবেন। মনে রাখবেন, সস্তা মানেই সবসময় ভালো নয়।

AppSumo থেকে কেনা ১০টি ‘ইউজলেস’ টুল এবং আমার অভিজ্ঞতা

১. MarketPlan (ফানেল ম্যাপিং ও প্ল্যানিং টুল)

মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:

MarketPlan হলো একটি অল-ইন-ওয়ান মার্কেটিং ফানেল বিল্ডার। এর মূল ফিচারগুলোর মধ্যে আছে ড্র্যাগ-অ্যান্ড-ড্রপ ফানেল ম্যাপিং, ক্যানভাসে সরাসরি টাস্ক ম্যানেজমেন্ট, ইমেইল সিকোয়েন্স প্ল্যানিং এবং লাইভ ট্র্যাকিং (যাতে ফানেলের কোন স্টেপে কতজন ইউজার আছে তা দেখা যায়)।

ব্যাবহারবিধি:

এটি মূলত ডিজিটাল মার্কেটার বা এজেন্সি মালিকদের জন্য তৈরি। ক্যানভাসে বিভিন্ন এলিমেন্ট (যেমন: ফেসবুক অ্যাড, ল্যান্ডিং পেজ, ইমেইল) সাজিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ কাস্টমার জার্নি ম্যাপ করা এবং টিমের সাথে সেই অনুযায়ী কাজ ভাগ করে দেওয়ার কাজে এটি ব্যবহৃত হয়।

কেন আমি কিনেছিলাম:

আমি সবসময়ই আমার ক্লায়েন্টদের প্রজেক্টগুলো একটি ভিজ্যুয়াল ম্যাপের মাধ্যমে প্রেজেন্ট করতে পছন্দ করি। স্প্রেডশিট বা টেক্সট ডকুমেন্টের চেয়ে ফানেল ম্যাপ অনেক বেশি প্রফেশনাল দেখায়। AppSumo-তে যখন এর লাইফটাইম ডিল আসে, তখন ভেবেছিলাম এটি আমার ফানেল প্ল্যানিং এবং ট্র্যাকিংয়ের সব সমস্যার সমাধান করে দেবে।

আমার অভিজ্ঞতা:

কেনার পর প্রথম কয়েকদিন খুব উৎসাহ নিয়ে ব্যবহার শুরু করলাম। কিন্তু সমস্যা দেখা দিল যখন আমি একটু বড় বা জটিল ফানেল ড্র করতে গেলাম। টুলটি এত বেশি রিসোর্স হাঙ্গরি যে, ব্রাউজারে এটি ওপেন করলেই ল্যাপটপ স্লো হয়ে যেত। ক্যানভাসে কোনো এলিমেন্ট এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ড্র্যাগ করতে গেলে স্ক্রিন ল্যাগ (Lag) করত, যা কাজ করার আগ্রহ নষ্ট করে দিত।

কেন এটি ইউজলেস:

  • পারফরম্যান্স ইস্যু: এর ইউজার ইন্টারফেস (UI) অত্যন্ত ভারি। লোডিং স্পিড কম হওয়ার কারণে দ্রুত কোনো আইডিয়া স্কেচ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

  • ভুল ট্র্যাকিং ডেটা: এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল ‘লাইভ ট্র্যাকিং’। কিন্তু আমি খেয়াল করলাম, এটি অনেক সময় ফেসবুক বা গুগল অ্যানালিটিক্স-এর সাথে মিলছে না। ভুল ডেটা নিয়ে কাজ করা মানে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া।

  • জটিল সেটিংস: একটি সিম্পল ম্যাপ তৈরি করতেও অনেক বেশি সময় এবং ক্লিক প্রয়োজন হয়, যা আদতে সময় বাঁচানোর বদলে সময় নষ্ট করে।

পার্থক্য টেবিল:

বৈশিষ্ট্য MarketPlan (AppSumo) Funnelytics বা Miro (বিকল্প)
পারফরম্যান্স অনেক স্লো এবং ব্রাউজার হ্যাং করে সুপার ফাস্ট এবং স্মুথ এক্সপেরিয়েন্স
ইউজার ইন্টারফেস হিজিবিজি এবং কঠিন সহজ, ক্লিন এবং মিনিমালিস্ট
ডেটা একুরেসি ট্র্যাকিং ডেটা অনেক সময় ভুল থাকে অত্যন্ত নিখুঁত এবং নির্ভরযোগ্য
কাজের গতি একটি ম্যাপ বানাতে দীর্ঘ সময় লাগে মুহূর্তের মধ্যে আইডিয়া ম্যাপ করা যায়

এক্সপার্ট গাইড: আপনি যদি শুধুমাত্র ফানেল ভিজ্যুয়ালাইজ বা ডিজাইন করতে চান, তবে Miro বা Lucidchart ব্যবহার করুন—এগুলো অনেক বেশি স্ট্যাবল। আর যদি অ্যাডভান্সড ট্র্যাকিং আপনার মূল লক্ষ্য হয়, তবে Funnelytics-এর ফ্রি ভার্সন ট্রাই করুন। কোনো টুল যদি আপনার কাজকে সহজ করার বদলে আরও জটিল করে তোলে, তবে সেটি যত দামীই হোক না কেন, তা আপনার জন্য ‘ইউজলেস’।

২. Peppertype.ai (AI রাইটিং টুল)

মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:

Peppertype.ai ছিল একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন কন্টেন্ট রাইটিং টুল। এটি ব্লগ আইডিয়া, ফেসবুক অ্যাড কপি, ইমেইল সাবজেক্ট লাইন এবং গুগল অ্যাড কপি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে জেনারেট করতে পারত।

ব্যাবহারবিধি:

ইউজাররা শুধু তাদের টপিক বা কি-ওয়ার্ড দিয়ে দিতেন এবং টুলটি তাদের জন্য ছোট ছোট কন্টেন্ট সেগমেন্ট লিখে দিত। এটি মূলত শর্ট-ফর্ম কন্টেন্টের জন্য ডিজাইন করা হয়েছিল।

কেন আমি কিনেছিলাম:

কন্টেন্ট রাইটিং অনেক সময়সাপেক্ষ কাজ। AppSumo-তে যখন এটি এলো, তখন আমার মনে হয়েছিল এটি দিয়ে আমি খুব দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট এবং ব্লগের ইন্ট্রো লিখে ফেলতে পারব। অনেক পজিটিভ রিভিউ দেখে আমি এটি কিনতে উৎসাহিত হয়েছিলাম।

আমার অভিজ্ঞতা:

শুরুতে এটি বেশ ভালোই কাজ করছিল। কিন্তু সমস্যা শুরু হলো যখন আমি একটু ইউনিক বা সৃজনশীল কিছু লিখতে চাইলাম। দেখা যেত একই কি-ওয়ার্ড দিলে এটি বারবার একই ধরণের বাক্য ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দিচ্ছে। কোনো ইন-ডেপথ রিসার্চ বা হিউম্যান টাচ এতে ছিল না।

কেন এটি ইউজলেস:

  • রিপিটেটিভ কন্টেন্ট: একই ধরণের আউটপুট বারবার আসে, যা এসইও-র জন্য ক্ষতিকর।

  • আপডেটের অভাব: চ্যাটজিপিটি বা ক্লড আসার পর এই টুলটি তাদের সাথে পাল্লা দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।

  • অস্পষ্ট রোডম্যাপ: ডেভেলপাররা নতুন কোনো বৈপ্লবিক ফিচার যোগ করতে পারেনি, ফলে এটি একটি সাধারণ টেম্পলেট-বেজড টুল হয়ে রয়ে গেছে।

পার্থক্য টেবিল:

বৈশিষ্ট্য Peppertype (AppSumo) ChatGPT/Claude (বিকল্প)
সৃজনশীলতা খুব সীমিত এবং রোবোটিক অত্যন্ত সৃজনশীল ও মানুষের মতো
লং-ফর্ম কন্টেন্ট লেখা প্রায় অসম্ভব বিশাল ব্লগ পোস্ট অনায়াসে লেখে
আপডেট অনেক স্লো প্রায় প্রতি মাসেই নতুন আপডেট আসে
কন্টেন্ট ভ্যারাইটি নির্দিষ্ট টেম্পলেটে সীমাবদ্ধ যেকোনো ধরণের কন্টেন্ট লেখা যায়

এক্সপার্ট গাইড: বর্তমানে রাইটিং টুলের জন্য টাকা খরচ করার আগে ভাবুন। যদি টুলটি জিপিটি-৪ বা ক্লড-এর চেয়ে উন্নত কোনো বিশেষ ফিচার (যেমন: কাস্টম ব্র্যান্ড ভয়েস) না দেয়, তবে তা কেনা থেকে বিরত থাকুন। ফ্রি ভার্সনই অনেক সময় এই পেইড ডিলগুলোর চেয়ে ভালো রেজাল্ট দেয়।

৩. Screpy (SEO অডিট টুল)

মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:

Screpy হলো একটি AI-বেজড এসইও অ্যানালাইসিস টুল। এটি ওয়েবসাইট অডিট, কি-ওয়ার্ড ট্র্যাকিং, পেজ স্পিড মনিটরিং এবং এসইও হেলথ স্কোর প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দেয়।

ব্যাবহারবিধি:

আপনার ওয়েবসাইটের ইউআরএল দিলে এটি পুরো সাইটটি ক্রল করে এবং কোথায় কোথায় এসইও এরর আছে তা একটি তালিকার মাধ্যমে দেখায়।

কেন আমি কিনেছিলাম:

Ahrefs বা Semrush-এর মাসিক সাবস্ক্রিপশন অনেক দামী। আমি চেয়েছিলাম সাশ্রয়ী দামে একটি লাইফটাইম টুল যা দিয়ে আমি এবং আমার ক্লায়েন্টদের সাইটের এসইও ইস্যুগুলো ট্র্যাক করা যাবে।

আমার অভিজ্ঞতা:

এটি ব্যবহার করতে গিয়ে আমি সবচেয়ে বড় যে সমস্যায় পড়েছি তা হলো ‘ভুল ডেটা’। এটি অনেক সময় এমন টেকনিক্যাল এরর দেখাতো যা আসলে সাইটে নেই। আবার অনেক সময় পেজ স্পিড স্কোর গুগল পেজস্পিড ইনসাইটসের সাথে একদমই মিলত না।

কেন এটি ইউজলেস:

  • নির্ভরযোগ্যতার অভাব: এসইও টুলের প্রধান শক্তি হলো এর ডেটা। যদি ডেটাই ভুল হয়, তবে পুরো কৌশলটাই ভুল হয়ে যায়।

  • ক্রলিং ইস্যু: বড় ওয়েবসাইটগুলোর ক্ষেত্রে এটি মাঝপথেই ক্রল করা বন্ধ করে দিত।

  • ইউজার ইন্টারফেস: ড্যাশবোর্ডটি বেশ অগোছালো, যা নতুনদের জন্য বোঝা বেশ কঠিন।

পার্থক্য টেবিল:

বৈশিষ্ট্য Screpy (AppSumo) Google Search Console (সেরা)
ডেটার নির্ভুলতা মাঝে মাঝেই ভুল দেখায় ১০০% নির্ভুল ও সরাসরি গুগলের ডেটা
খরচ লাইফটাইম পেমেন্ট (পেইড) সম্পূর্ণ ফ্রি
এরর ফিক্সিং অস্পষ্ট সাজেশন ডিটেইলড গাইডলাইন
স্পিড অ্যানালাইসিস থার্ড পার্টি ডেটা লাইভ এবং একুরেট ডেটা

এক্সপার্ট গাইড: থার্ড-পার্টি এসইও টুলের ওপর অন্ধভাবে ভরসা করবেন না। প্রথমে Google Search Console এবং Google Analytics ভালোভাবে আয়ত্ত করুন। এরপর যদি এক্সট্রা ডেটা দরকার হয়, তবেই প্রিমিয়াম কোনো টুলের কথা ভাবুন।

৪. WebinarNinja (ওয়েবিনার প্ল্যাটফর্ম)

মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:

এটি একটি ক্লাউড-বেজড ওয়েবিনার প্ল্যাটফর্ম যা লাইভ, অটোমেটেড এবং সিরিজ ওয়েবিনার করার সুযোগ দেয়। এতে ল্যান্ডিং পেজ বিল্ডার এবং ইমেইল মার্কেটিং টুল বিল্ট-ইন থাকে।

ব্যাবহারবিধি:

কোচ, মার্কেটার বা ট্রেইনাররা লাইভ সেশন করার জন্য এবং অডিয়েন্সের সাথে ইন্টার‍্যাক্ট করার জন্য এটি ব্যবহার করেন।

কেন আমি কিনেছিলাম:

আমি চেয়েছিলাম জুম (Zoom)-এর মাসিক ফি থেকে মুক্তি পেতে। WebinarNinja-র ডিলটি তখন বেশ লোভনীয় মনে হয়েছিল কারণ তারা বলেছিল এটি একটি কমপ্লিট মার্কেটিং ফানেল হিসেবে কাজ করবে।

আমার অভিজ্ঞতা:

লাইভ সেশনের সময় এটি ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্ন। ইন্টারনেটে সামান্য উঠানামা করলেই ভিডিও কোয়ালিটি অত্যন্ত বাজে হয়ে যেত। সেশনের মাঝখানে স্ক্রিন শেয়ার বন্ধ হয়ে যাওয়া বা ইউজাররা জয়েন করতে না পারার মতো সমস্যাগুলো ছিল নিত্যনৈমিত্তিক।

কেন এটি ইউজলেস:

  • অস্থির কানেকশন: লাইভ প্রোগ্রামের জন্য স্ট্যাবিলিটি সবচেয়ে জরুরি, যা এতে ছিল না।

  • বগি ইউজার ইন্টারফেস: ব্যাকএন্ড অনেক সময় খুব স্লো কাজ করত।

  • সাপোর্ট রেসপন্স: টেকনিক্যাল সমস্যা নিয়ে সাপোর্ট টিমের কাছে গেলে তারা খুব ধীরগতিতে উত্তর দিত।

পার্থক্য টেবিল:

বৈশিষ্ট্য WebinarNinja (AppSumo) Zoom বা Google Meet (বিকল্প)
ভিডিও স্ট্যাবিলিটি অত্যন্ত দুর্বল অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য
ইউজার এক্সপেরিয়েন্স জটিল ও ল্যাগি সহজ এবং ইউজার ফ্রেন্ডলি
অডিও কোয়ালিটি ড্রপ করার প্রবণতা আছে হাই-ডেফিনিশন ক্ল্যারিটি
নির্ভরযোগ্যতা কম (ঝুঁকিপূর্ণ) সর্বোচ্চ (ইন্ডাস্ট্রি স্ট্যান্ডার্ড)

এক্সপার্ট গাইড: লাইভ প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে কখনো সস্তা বা অপরীক্ষিত টুল ব্যবহার করবেন না। এটি আপনার এবং আপনার ব্র্যান্ডের ইমেজ নষ্ট করতে পারে। ওয়েবিনার বা লাইভ সেশনের জন্য জুম বা গুগল মিট-এর মতো নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

৫. SendFox (ইমেইল মার্কেটিং টুল)

মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:

SendFox হলো একটি সিম্পল ইমেইল মার্কেটিং টুল যা মূলত কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য তৈরি। এতে নিউজলেটার পাঠানো, অটোমেশন এবং ল্যান্ডিং পেজ তৈরির সুবিধা রয়েছে।

ব্যাবহারবিধি:

এটি ব্যবহার করে আপনি আপনার অডিয়েন্সের ইমেইল লিস্ট তৈরি করতে পারেন এবং তাদের কাছে নিয়মিত আপডেট বা প্রমোশনাল ইমেইল পাঠাতে পারেন।

কেন আমি কিনেছিলাম:

Mailchimp বা কনভার্টকিট-এর মতো টুলগুলোর মাসিক সাবস্ক্রিপশন ফি অনেক বেশি। AppSumo-তে SendFox-এর লাইফটাইম ডিল দেখে ভেবেছিলাম এটি আমার ইমেইল মার্কেটিংয়ের খরচ চিরতরে কমিয়ে দেবে।

আমার অভিজ্ঞতা:

টুলটি ব্যবহার করতে গিয়ে দেখলাম এর ডিজাইন অপশন অত্যন্ত সীমাবদ্ধ। আপনি যদি সুন্দর বা প্রফেশনাল ইমেইল টেমপ্লেট চান, তবে এটি আপনাকে হতাশ করবে। এর ড্যাশবোর্ড এবং ফিচারগুলো অনেক বেশি সাধারণ (Basic)।

কেন এটি ইউজলেস:

  • লিমিটেড অটোমেশন: এতে অ্যাডভান্সড কন্ডিশনাল অটোমেশন নেই।

  • বাজে ডিজাইন: ল্যান্ডিং পেজ বা ইমেইল ডিজাইন করার সময় কোনো সৃজনশীলতা দেখানোর সুযোগ নেই।

  • ফিচারের অভাব: বড় ইমেইল ক্যাম্পেইনের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক ফিচার এতে অনুপস্থিত।

পার্থক্য টেবিল:

বৈশিষ্ট্য SendFox (AppSumo) MailerLite বা ConvertKit (বিকল্প)
ডিজাইন কন্ট্রোল খুব সীমিত এবং সাধারণ ড্র্যাগ-অ্যান্ড-ড্রপ সুন্দর টেমপ্লেট
অটোমেশন বেসিক লেভেলের অত্যন্ত উন্নত ও কন্ডিশনাল
ইমেইল ডেলিভারাবিলিটি মোটামুটি ভালো অত্যন্ত শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য
ইউজার ইন্টারফেস অনেক পুরনো আমলের আধুনিক ও ইউজার ফ্রেন্ডলি

এক্সপার্ট গাইড: আপনি যদি শুধুমাত্র সাধারণ টেক্সট নিউজলেটার পাঠাতে চান তবে এটি ঠিক আছে। কিন্তু যদি প্রফেশনাল মার্কেটিং করতে চান, তবে MailerLite-এর ফ্রি ভার্সনও SendFox-এর চেয়ে ভালো রেজাল্ট দেবে।

৬. AppMySite (মোবাইল অ্যাপ বিল্ডার)

মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:

এটি একটি নো-কোড প্ল্যাটফর্ম যা আপনার ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটকে সরাসরি একটি নেটিভ মোবাইল অ্যাপে (Android & iOS) রূপান্তর করার প্রতিশ্রুতি দেয়।

ব্যাবহারবিধি:

আপনার সাইটের ইউআরএল কানেক্ট করে আপনি অ্যাপের ডিজাইন কাস্টমাইজ করতে পারেন এবং কয়েক মিনিটের মধ্যে অ্যাপ তৈরি করে ফেলতে পারেন।

কেন আমি কিনেছিলাম:

কোডিং না জেনেও নিজের ব্লগের জন্য একটি অ্যাপ থাকবে—এই লোভে আমি এটি কিনেছিলাম। ভেবেছিলাম এটি আমার পাঠকদের জন্য ভালো একটি অভিজ্ঞতা হবে।

আমার অভিজ্ঞতা:

অ্যাপটি তৈরি করার পর দেখলাম এটি আসলে একটি ‘মোবাইল ওয়েবসাইট’ ছাড়া আর কিছুই না। অ্যাপের ভেতর লোডিং স্পিড ছিল ভয়াবহ। এছাড়া অ্যাপ স্টোর বা প্লে স্টোরে এটি পাবলিশ করতে গিয়ে বারবার টেকনিক্যাল এরর আসছিল।

কেন এটি ইউজলেস:

  • প্রচুর বাগ (Bugs): অ্যাপটি প্রায়ই মাঝপথে ক্র্যাশ করে।

  • কাস্টমাইজেশন লিমিট: আপনি আপনার ইচ্ছামতো অ্যাপের লেআউট পরিবর্তন করতে পারবেন না।

  • সাবমিশন ঝামেলা: অ্যাপ স্টোরের গাইডলাইন মেনে অ্যাপটি তৈরি করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে।

পার্থক্য টেবিল:

বৈশিষ্ট্য AppMySite (AppSumo) Flutter/React Native (বিকল্প)
পারফরম্যান্স স্লো এবং বাগি সুপার ফাস্ট এবং স্মুথ
ইউজার এক্সপেরিয়েন্স অনেকটা ওয়েব ভিউর মতো আসল অ্যাপের অভিজ্ঞতা
কাস্টমাইজেশন খুবই কম অসীম সম্ভাবনাময়

এক্সপার্ট গাইড: যদি আপনার বাজেট কম থাকে তবে অ্যাপ বানানোর চিন্তা আপাতত বাদ দিয়ে ওয়েবসাইটকে ‘PWA’ (Progressive Web App) করে নিন। AppMySite-এর মতো সস্তা কনভার্টার আপনার ব্র্যান্ডের মান কমিয়ে দিতে পারে।

৭. RelayThat (ডিজাইন টুল)

মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:

RelayThat হলো একটি অটোমেটেড ডিজাইন টুল যা আপনার ব্র্যান্ড কালার এবং লোগো ব্যবহার করে মুহূর্তের মধ্যে শত শত সোশ্যাল মিডিয়া গ্রাফিক তৈরি করে দেয়।

ব্যাবহারবিধি:

এটি মূলত যারা গ্রাফিক ডিজাইন জানেন না তাদের জন্য। শুধু টেক্সট এবং ইমেজ আপলোড করলে এটি অটোমেটিক লেআউট তৈরি করে দেয়।

কেন আমি কিনেছিলাম:

সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ডিজাইন করার সময় বাঁচাতে আমি এটি কিনেছিলাম। ক্যানভাতে প্রতিটা ডিজাইন আলাদা করে করতে সময় লাগে, তাই ভেবেছিলাম এটি জাদুর মতো কাজ করবে।

আমার অভিজ্ঞতা:

সবকিছুই ঠিক ছিল, কিন্তু এর বড় সমস্যা হলো ‘সৃজনশীলতার অভাব’। আপনি যদি কোনো একটি এলিমেন্টকে সামান্য ডানে বা বামে সরাতে চান, আপনি তা পারবেন না। এটি তাদের নির্দিষ্ট টেমপ্লেটেই আপনাকে সীমাবদ্ধ রাখে।

কেন এটি ইউজলেস:

  • ক্রিয়েটিভ কন্ট্রোল নেই: এলিমেন্টগুলো মুভ করার সুযোগ নেই।

  • একঘেয়ে ডিজাইন: কিছুদিন পর দেখবেন আপনার সব পোস্ট একই রকম দেখাচ্ছে।

  • আপডেটেড নয়: বর্তমানে ক্যানভা (Canva) যেখানে অনেক এগিয়ে গেছে, এটি সেখানে অনেক পিছিয়ে।

পার্থক্য টেবিল:

বৈশিষ্ট্য RelayThat (AppSumo) Canva বা Adobe Express (বিকল্প)
কন্ট্রোল খুব কম পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ
টেমপ্লেট লাইব্রেরি সীমিত ও পুরনো স্টাইল বিশাল এবং আধুনিক
ব্যাবহারের সহজতা সহজ কিন্তু একঘেয়ে অত্যন্ত সহজ ও ক্রিয়েটিভ

এক্সপার্ট গাইড: আপনি যদি ডিজাইনের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ না রাখতে চান তবে এটি আপনার জন্য। তবে বর্তমানে ক্যানভার ফ্রি ভার্সন ব্যবহার করাই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।

৮. StockUnlimited (স্টক ইমেজ সাইট)

মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:

এটি একটি বিশাল লাইব্রেরি যেখানে কয়েক মিলিয়ন স্টক ফটো, ভেক্টর এবং ইলাস্ট্রেশন পাওয়া যায়।

ব্যাবহারবিধি:

কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা তাদের ব্লগ বা সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য কপিরাইট ফ্রি ছবি ডাউনলোড করতে এটি ব্যবহার করেন।

কেন আমি কিনেছিলাম:

ছবি বা ভেক্টরের জন্য প্রতি মাসে টাকা দেওয়া বা আলাদা করে কেনা বেশ খরচসাপেক্ষ। লাইফটাইম এক্সেসে কয়েক মিলিয়ন ছবি পাওয়া যাবে শুনে এটি কিনেছিলাম।

আমার অভিজ্ঞতা:

টুলটি খোলার পর দেখলাম ছবির মান খুবই গড়পড়তা। অধিকাংশ ছবিই দেখতে কৃত্রিম এবং পুরনো স্টাইলের। আধুনিক ডিজাইনে যে ধরণের ছবির প্রয়োজন হয়, তা এখানে পাওয়া দুষ্কর।

কেন এটি ইউজলেস:

  • লো কোয়ালিটি: অধিকাংশ ছবিই প্রফেশনাল মনে হয় না।

  • সার্চ ইঞ্জিন দুর্বল: সঠিক কি-ওয়ার্ড দিয়ে খুঁজলেও প্রাসঙ্গিক ছবি পাওয়া কঠিন।

  • বিকল্পের আধিক্য: বর্তমানে অনেক ফ্রি সাইট এর চেয়ে ভালো ছবি দেয়।

পার্থক্য টেবিল:

বৈশিষ্ট্য StockUnlimited (AppSumo) Unsplash বা Pexels (বিকল্প)
ছবির মান গড়পড়তা বা পুরনো হাই-ডেফিনিশন ও আধুনিক
সার্চ একুরেসি দুর্বল অত্যন্ত ভালো
খরচ লাইফটাইম পেইড সম্পূর্ণ ফ্রি

এক্সপার্ট গাইড: স্টক ছবির জন্য টাকা খরচ করার আগে Unsplash, Pexels বা Pixabay দেখুন। যদি আপনার সত্যিই প্রিমিয়াম ছবি লাগে, তবেই ফ্রিপিক (Freepik) বা শাটারস্টক-এর মতো বড় প্ল্যাটফর্মের কথা ভাবুন।

৯. Zupyak (AI কন্টেন্ট ও এসইও টুল)

মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:

Zupyak হলো একটি AI চালিত প্ল্যাটফর্ম যা কন্টেন্ট রাইটিং এবং এসইও অপ্টিমাইজেশন একসাথে করার দাবি করে।

ব্যাবহারবিধি:

টপিক দিলে এটি আপনাকে এসইও কি-ওয়ার্ড সাজেস্ট করে এবং সেই অনুযায়ী কন্টেন্ট লিখে দেয়।

কেন আমি কিনেছিলাম:

এসইও-র জন্য আলাদা রিসার্চ করার সময় নেই, তাই ভেবেছিলাম এক টুলেই সব কাজ হয়ে যাবে এবং আর্টিকেল দ্রুত গুগলে র‍্যাঙ্ক করবে।

আমার অভিজ্ঞতা:

এর এআই জেনারেটেড কন্টেন্ট ছিল খুবই জেনেরিক। এটি অনেকটা উইকিপিডিয়া থেকে তথ্য কপি-পেস্ট করার মতো আউটপুট দেয়। এছাড়া এসইও স্কোরিং সিস্টেমটিও বেশ পুরনো মনে হয়েছে।

কেন এটি ইউজলেস:

  • আউটডেটেড ডেটা: কি-ওয়ার্ড সাজেশনগুলো অনেক সময় বর্তমান ট্রেন্ডের সাথে মেলে না।

  • খারাপ কন্টেন্ট কোয়ালিটি: আর্টিকেলগুলো মানুষের পড়ার উপযোগী করতে অনেক এডিট করতে হয়।

  • লিমিটেড ফিচার: চ্যাটজিপিটি আসার পর এই টুলের গুরুত্ব প্রায় শূন্য হয়ে গেছে।

পার্থক্য টেবিল:

বৈশিষ্ট্য Zupyak (AppSumo) ChatGPT + NeuronWriter (বিকল্প)
কন্টেন্ট কোয়ালিটি সাধারণ AI আউটপুট অত্যন্ত স্মার্ট ও কাস্টমাইজড
এসইও গাইডেন্স বেসিক অ্যাডভান্সড ও রিয়েল টাইম
কাজের গতি ধীরগতি সম্পন্ন অত্যন্ত দ্রুত

এক্সপার্ট গাইড: এসইও কন্টেন্টের জন্য শুধুমাত্র একটি টুলের ওপর নির্ভর না করে মানুষের রিসার্চ এবং ভালো এআই টুলের (যেমন: ক্লড) সমন্বয় করুন। জুপইয়াক-এর মতো টুলগুলো বর্তমানে আপনার এসইও-র কোনো বিশেষ উন্নতি করবে না।

১০. Happyforms (ফর্ম বিল্ডার)

মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:

এটি একটি ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগইন যা ড্র্যাগ-অ্যান্ড-ড্রপ পদ্ধতিতে কন্টাক্ট ফর্ম, সার্ভে এবং পোল তৈরি করতে সাহায্য করে।

ব্যাবহারবিধি:

আপনার সাইটে যোগাযোগ করার জন্য বা ডেটা সংগ্রহের জন্য ফর্ম তৈরি করতে এটি ব্যবহৃত হয়।

কেন আমি কিনেছিলাম:

আমি ফর্মের জন্য একটি লাইফটাইম প্রো টুল চাচ্ছিলাম। ফ্রি প্লাগইনগুলোতে অনেক সীমাবদ্ধতা থাকে, তাই ভেবেছিলাম Happyforms প্রো কিনলে সব সমস্যার সমাধান হবে।

আমার অভিজ্ঞতা:

প্লাগইনটি সিম্পল ঠিক আছে, কিন্তু এর ডিজাইন এবং কাস্টমাইজেশন ফিচার অত্যন্ত কম। এমনকি সাধারণ কালার বা ফন্ট চেঞ্জ করতেও অনেক সময় সিএসএস (CSS) কোডিংয়ের সাহায্য নিতে হতো।

কেন এটি ইউজলেস:

  • ডিজাইন লিমিট: প্রো ভার্সন হওয়া সত্ত্বেও এর স্টাইলিং অপশন অনেক কম।

  • ভারি প্লাগইন: সাইটের স্পিডে কিছুটা প্রভাব ফেলে।

  • শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী: এলিমেন্টর বা অন্যান্য ফ্রি প্লাগইন এর চেয়ে অনেক বেশি সুবিধা দেয়।

পার্থক্য টেবিল:

বৈশিষ্ট্য Happyforms (AppSumo) Fluent Forms বা WPForms (বিকল্প)
ডিজাইন অপশন খুবই সীমিত প্রচুর রেডিমেড ডিজাইন ও স্টাইল
ব্যবহারের সুবিধা গড়পড়তা অত্যন্ত আধুনিক ও ইউজার ফ্রেন্ডলি
ফিচার সাধারণ অনেক অ্যাডভান্সড ফিচার (যেমন: পেমেন্ট)

এক্সপার্ট গাইড: আপনি যদি এলিমেন্টর প্রো ব্যবহার করেন, তবে আলাদা করে কোনো ফর্ম বিল্ডার কেনার দরকার নেই। আর ফ্রিতে সেরা অপশন চাইলে Fluent Forms ট্রাই করুন। Happyforms-এর পেছনে টাকা খরচ করা বর্তমান সময়ে স্রেফ বিলাসিতা।

AppSumo থেকে কেনা সবচেয়ে খারাপ ডিলগুলি চেনার ৫টি উপায় (প্রো টিপস)

AppSumo-তে চকচক করলেই সোনা হয় না। গত ৫ বছরে আমি কয়েক হাজার ডলার এই প্ল্যাটফর্মে খরচ করেছি। অনেক সময় ‘Shiny Object Syndrome’-এর শিকার হয়ে এমন সব টুল কিনেছি যা পরে কোনো কাজেই আসেনি। আমার সেই তিতা অভিজ্ঞতা এবং শত শত টুল এনালাইসিস করার পর আমি ৫টি গোপন ট্রিকস বের করেছি, যা আপনাকে ‘ইউজলেস’ ডিল কেনা থেকে বাঁচাবে।

১. প্রোডাক্ট রোডম্যাপ (Roadmap) গভীরভাবে যাচাই করুন

একটি লাইফটাইম ডিল মানে হলো আপনি টুলটির ভবিষ্যতের ওপর বিনিয়োগ করছেন। ডিল কেনার আগে দেখুন তাদের কোনো পাবলিক রোডম্যাপ (যেমন: Trello বা Notion বোর্ড) আছে কি না।

  • কেন দেখবেন: যদি দেখেন গত ৬ মাসে তারা কোনো বড় আপডেট দেয়নি বা তাদের ফিউচার প্ল্যান খুব অস্পষ্ট, তবে বুঝবেন টুলটি অচিরেই পরিত্যক্ত হতে যাচ্ছে।

  • এক্সপার্ট টিপ: শুধু রোডম্যাপ থাকলেই হবে না, দেখুন তারা পুরনো ‘Promised Features’ গুলো সময়মতো ডেলিভারি দিয়েছে কি না।

২. পজিটিভ নয়, আগে ‘Negative Reviews’ পড়ুন

AppSumo-তে অনেক সময় রিভিউ দেওয়ার বিনিময়ে এক্সট্রা সুবিধা (যেমন: অতিরিক্ত ক্রেডিট বা লিমিট) দেওয়া হয়। ফলে অনেক ইউজার না বুঝেই ৫-স্টার রিভিউ দিয়ে দেয়।

  • কেন দেখবেন: ১ বা ২-স্টার রিভিউগুলো মূলত সফটওয়্যারের আসল সীমাবদ্ধতাগুলো তুলে ধরে। সেখানে যদি দেখেন অনেকেই ‘Buggy’ বা ‘Slow’ হওয়ার অভিযোগ করছে, তবে সাবধান হয়ে যান।

  • কী খুঁজবেন: একই ধরণের টেকনিক্যাল সমস্যার কথা কি একাধিক ইউজার বলছে? যদি উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয়, তবে ডিলটি এড়িয়ে চলাই ভালো।

৩. রিফান্ড পিরিয়ডকে (৬০ দিন) ‘হানিমুন পিরিয়ড’ ভাববেন না

অনেকে ডিল কিনে ফেলে রাখেন এবং ভাবেন পরে শিখবেন। এটি সবচেয়ে বড় ভুল।

  • কেন গুরুত্বপূর্ণ: কেনার প্রথম ২ সপ্তাহ টুলটি আপনার দৈনন্দিন কাজের (Daily Workflow) সাথে ব্যবহার করে দেখুন।

  • পরীক্ষা করার কৌশল: টুলটিকে তার সর্বোচ্চ লিমিটে ব্যবহার করে দেখুন সেটি ক্র্যাশ করে কি না। যদি ৬০ দিন পার হওয়ার পর বুঝতে পারেন এটি আপনার কাজে আসছে না, তবে আপনার টাকাগুলো স্রেফ জলে যাবে।

৪. কাস্টমার সাপোর্টকে একটি ‘ফাঁদ’ বা টেস্ট মেসেজ দিন

সফটওয়্যার যত ভালোই হোক, সাপোর্ট খারাপ হলে সেই টুল ব্যবহার করা যন্ত্রণাদায়ক।

  • কি করবেন: ডিল কেনার আগেই বা কেনার ঠিক পরেই সাপোর্ট টিমে একটি টেকনিক্যাল প্রশ্ন পাঠিয়ে দেখুন। তারা কত দ্রুত এবং কতটা প্রফেশনালভাবে উত্তর দিচ্ছে তা খেয়াল করুন।

  • সতর্ক সংকেত: যদি উত্তর পেতে ৩-৪ দিন সময় লাগে বা তারা যদি রোবোটিক উত্তর দেয়, তবে বুঝবেন ভবিষ্যতে কোনো বড় সমস্যায় পড়লে আপনি তাদের কাছ থেকে সাহায্য পাবেন না।

৫. রিফান্ড পলিসি ও ‘Stacking’ নিয়ম সম্পর্কে পরিষ্কার হোন

সব ডিলের রিফান্ড পলিসি এক হয় না (বিশেষ করে AppSumo Marketplace-এর কিছু ডিলের ক্ষেত্রে)।

  • কেন দেখবেন: অনেক সময় একটি কোড কিনলে প্রয়োজনীয় সব ফিচার পাওয়া যায় না, ২ বা ৩টি কোড ‘Stack’ করতে হয়।

  • আপনার করণীয়: ডিলটি কেনার আগে ‘Terms & Conditions’ সেকশনটি খুঁটিয়ে পড়ুন। আপনার প্রয়োজনীয় ফিচারটি পেতে কয়টি কোড লাগবে এবং সেগুলো রিফান্ডেবল কি না, তা নিশ্চিত হয়ে নিন।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে একটি কথা: আমি যখন নতুন ছিলাম, তখন মাত্র ৪৯ ডলারে একটি অটোমেশন টুল কিনেছিলাম। রিভিউ দেখে মনে হয়েছিল এটি জাদুর মতো কাজ করবে। কিন্তু তাদের কোনো রোডম্যাপ ছিল না এবং সাপোর্ট ছিল অত্যন্ত ধীর। ৩ মাস পর কোম্পানিটি বন্ধ হয়ে যায় এবং আমার টাকাটা পুরো লস হয়। তাই এখন আমি ডিল কেনার আগে আবেগের চেয়ে যুক্তিতে বেশি গুরুত্ব দেই।

আরও পড়ুন: আপনি কি জানেন ভুল সময়ে ডিল কিনলে টাকা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে? জানুন AppSumo-তে Lifetime Deals কখন কিনতে হয়? (সময় ও কৌশল)

AppSumo ডিল নিয়ে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ FAQ (সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন)

AppSumo থেকে ডিল কেনার আগে এবং পরে আপনাদের মনে অনেক প্রশ্ন থাকে। আমার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার আলোকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ১০টি প্রশ্নের উত্তর নিচে দেওয়া হলো:

১. AppSumo থেকে কেনা কোনো টুল পছন্দ না হলে কি রিফান্ড করা সম্ভব?

হ্যাঁ, অবশ্যই। AppSumo-র সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো তাদের ৬০ দিনের ‘No Questions Asked’ রিফান্ড পলিসি। আপনি যদি ডিলটি কেনার পর মনে করেন এটি আপনার কাজে আসছে না, তবে ৬০ দিনের মধ্যে যেকোনো সময় রিফান্ড রিকোয়েস্ট করতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, ‘AppSumo Marketplace’ এর কিছু ডিলের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা আলাদা হতে পারে।

২. লাইফটাইম ডিল (LTD) কি আসলেই সারাজীবনের জন্য স্থায়ী হয়?

তাত্ত্বিকভাবে এটি সারাজীবনের জন্য, কিন্তু এখানে একটি ঝুঁকি আছে। যদি কোনো স্টার্টআপ কোম্পানি দেউলিয়া হয়ে যায় বা তাদের সার্ভিস বন্ধ করে দেয়, তবে আপনার ডিলটিও শেষ হয়ে যাবে। একে বলা হয় “LTD Risk”। তাই বড় কোনো ইনভেস্টমেন্টের আগে কোম্পানির স্ট্যাবিলিটি দেখে নেওয়া জরুরি।

৩. কোম্পানিগুলো কেন AppSumo-তে এত সস্তায় লাইফটাইম ডিল দেয়?

নতুন স্টার্টআপগুলোর জন্য শুরুতে বিশাল ইউজার বেস এবং ফান্ডিং প্রয়োজন হয়। AppSumo তাদের সেই সুযোগ করে দেয়। তারা মূলত তাদের সফটওয়্যারের বাগ ফিক্সিং এবং ফিউচার ডেভেলপমেন্টের জন্য প্রাথমিক মূলধন সংগ্রহের উদ্দেশ্যে সস্তায় ডিল দেয়।

৪. একটি খারাপ ডিল বা ‘ইউজলেস’ টুল এড়ানোর প্রধান কৌশল কী?

সবচেয়ে কার্যকরী কৌশল হলো টুলটির ‘Public Roadmap’ এবং ডেভেলপার টিমের ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করা। তারা যদি নিয়মিত আপডেট দেয় এবং কমিউনিটির সাথে যুক্ত থাকে, তবে সেই টুলটি কেনার ঝুঁকি অনেক কমে যায়।

৫. AppSumo ডিল কি অন্য কারো কাছে রিসেল বা বিক্রি করা যায়?

অফিশিয়ালি AppSumo একাউন্ট বা ডিল বিক্রি করা সমর্থন করে না এবং এটি তাদের টার্মস অফ সার্ভিসের পরিপন্থী। অনেকে অনানুষ্ঠানিকভাবে বিক্রি করে, তবে এতে আপনার একাউন্টটি পার্মানেন্টলি ব্যান হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

৬. অনলাইনে অনেক ফ্রি বিকল্প থাকতে মানুষ কেন পেইড ডিল কেনে?

ফ্রি টুলগুলোতে সাধারণত অনেক সীমাবদ্ধতা থাকে (যেমন: লিমিটেড অটোমেশন, ওয়াটারমার্ক বা কম স্টোরেজ)। পেইড লাইফটাইম ডিল কিনলে আপনি প্রিমিয়াম ফিচার, নিয়মিত আপডেট এবং কাস্টমার সাপোর্ট পান, যা দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসার খরচ কমায়।

৭. AppSumo-তে থাকা রিভিউগুলো কি ১০০% বিশ্বাসযোগ্য?

সবসময় নয়। অনেক কোম্পানি ভালো রিভিউ দেওয়ার বিনিময়ে ইউজারদের এক্সট্রা ক্রেডিট বা ফিচার অফার করে। তাই সব ৫-স্টার রিভিউ বিশ্বাস না করে নেতিবাচক রিভিউগুলো (১ বা ২ স্টার) পড়লে টুলের আসল দুর্বলতা বোঝা যায়।

৮. ডিল কেনার পর ঠিক কতদিন ব্যবহার করলে এর ভালো-মন্দ বোঝা যায়?

আমার অভিজ্ঞতা হলো, কোনো টুলকে ২-৩ সপ্তাহ আপনার দৈনন্দিন প্রজেক্টে ব্যবহার করলেই এর সীমাবদ্ধতাগুলো চোখে পড়ে। তাই ৬০ দিনের রিফান্ড পিরিয়ড শেষ হওয়ার অন্তত ১ মাস আগেই টুলটি নিবিড়ভাবে টেস্ট করা উচিত।

৯. যেসব টুলের মোবাইল অ্যাপ নেই, সেগুলো কি কেনা উচিত হবে?

এটি নির্ভর করে আপনার কাজের ধরণের ওপর। যদি আপনার কাজ মূলত ডেস্কটপ ভিত্তিক হয় (যেমন: এসইও বা কোডিং), তবে অ্যাপ না থাকলেও চলে। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট বা কমিউনিকেশন টুলের ক্ষেত্রে বর্তমানে মোবাইল অ্যাপ থাকাটা অত্যন্ত জরুরি।

১০. AppSumo থেকে কেনা ‘সবচেয়ে খারাপ ডিল’গুলো থেকে আমাদের শিক্ষা কী?

প্রধান শিক্ষা হলো— “FOMO” (Fear Of Missing Out) বা হিড়িক দেখে কোনো ডিল কেনা যাবে না। ডিলটি সস্তা বলে নয়, বরং এটি আপনার বর্তমান বা ভবিষ্যতের কোনো সমস্যার সমাধান করছে কি না—সেই যুক্তি দিয়ে কেনা উচিত।

আমার ব্যক্তিগত মতামত

AppSumo থেকে কেনা সবচেয়ে খারাপ ডিলগুলি আমাদের শুধু টাকা নয়, বরং অনেক মূল্যবান সময়ও নষ্ট করে। গত কয়েক বছরে আমি শিখেছি যে, একটি সস্তা লাইফটাইম ডিলের চেয়ে একটি কার্যকরী এবং স্থিতিশীল মাসিক সাবস্ক্রিপশন টুল অনেক সময় বেশি সাশ্রয়ী। কোনো ডিল কেনার আগে আবেগের বশবর্তী না হয়ে নিরপেক্ষভাবে এর উপযোগিতা যাচাই করুন।

আমার এই “তিতা অভিজ্ঞতার” তালিকা দেখে আশা করি আপনারা সচেতন হতে পারবেন। তবে মনে রাখবেন, সবার অভিজ্ঞতা এক নয়—আমার জন্য যা ইউজলেস, তা হয়তো আপনার ব্যবসায় কাজেও আসতে পারে।

আপনারও কি AppSumo থেকে কোনো তিতা অভিজ্ঞতা আছে? কোনো টুল কিনে কি আপনিও পস্তিয়েছেন? কমেন্ট করে আমাদের জানান, যাতে অন্যরাও সতর্ক হতে পারে।

WhatsApp WhatsApp Channel Join Now
Telegram Telegram Channel Join Now
Picture of MD Tanvir Hasan Refat

MD Tanvir Hasan Refat

আমি মোঃ তানভীর হাসান রিফাত, একজন ডিজিটাল মার্কেটার। এই ব্লগের মাধ্যমে আমি আমার অভিজ্ঞতা শেয়ার করি, যেন আপনারা সঠিক গাইডলাইন মেনে অনলাইন আর্নিং এবং ডিজিটাল স্কিল ডেভেলপ করতে পারেন। সাথে থাকুন, নতুন কিছু শিখুন।

One Response

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপডেট মিস করতে না চাইলে!

সবার আগে অনলাইন আর্নিং এবং ডিজিটাল স্কিল ডেভেলপ করতে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন।